২২ গজের ক্রিকেট মাঠে ছক্কা হাঁকানোর দক্ষতা এবার রাজনৈতিক ময়দানে প্রয়োগ করছেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান। সোমবার সকাল থেকেই শামসেরগঞ্জে তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সাধারণ মানুষ বিভিন্ন রাস্তা ও চত্বরে ভিড় জমিয়ে তাঁর অভ্যর্থনা জানায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্রিকেটে যেভাবে তিনি ছক্কা হাঁকিয়েছেন, সেই একই ধাঁচে ভোটের ময়দানেও প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন কি না, সেটাই এখন নজর কাড়ে।
সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ইউসুফ পাঠান শামসেরগঞ্জের বাসুদেবপুর এলাকায় পৌঁছান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নুর আলাম। স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক, ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসী। এরপর সাংসদ খলিলুর রহমানসহ তিনজন একসঙ্গে হুড খোলা গাড়িতে চড়ে জনসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেন। রোড শো চলাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষ উৎসাহী চিৎকার করে তাঁদের অভ্যর্থনা জানান।
তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, বাসুদেবপুর থেকে শুরু করে ভাষায়পাইকর, দোগাছি, নপাড়া, বাসুদেবপুর রোডসহ একাধিক এলাকায় রোড শো ও প্রচার চালানো হবে। প্রতিটি স্টপেজে স্থানীয় নেতারা ও স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত থাকবেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইউসুফ পাঠানের আগমন এলাকায় একটি নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারকা প্রচারক হিসেবে ইউসুফ পাঠানের উপস্থিতি তৃণমূলের প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শুধু তাই নয়, এই ধরনের জনসংযোগ কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের সরাসরি সংস্পর্শ তাঁকে ভোটের ময়দানে শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করতে সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, রাজনৈতিক প্রচারে তারকা উপস্থিতি কখনো কখনো ভোটের ফলাফলেও প্রভাব ফেলে।
শামসেরগঞ্জের রাজনৈতিক মহলের মন্তব্য, “ক্রিকেটের মাঠে ছক্কা হাঁকানো যেমন দর্শককে মুগ্ধ করে, রাজনৈতিক মঞ্চেও একই ধরনের জনমোহন দেখাতে পারলে তৃণমূলের প্রচারে তা কার্যকর হতে পারে।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও যুক্তি দেখাচ্ছেন, জনপ্রিয়তা যথেষ্ট হলেও স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থী ও দলের ভাবমূর্তির সঙ্গে মিলিয়ে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা ভোটের দিনই স্পষ্ট হবে।
পর্যবেক্ষকরা আরও দেখছেন, ইউসুফ পাঠানের এই প্রচার তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করছে। ক্রিকেটার হিসেবে তার পরিচিতি এবং জনসমক্ষে সাদাসিধে আচরণ তাকে রাজনৈতিক জনমত গঠনে সহায়তা করছে। তবে ভোটের ময়দানে প্রভাব বিস্তার করতে পারা বা পারা না—এটাই এখন শামসেরগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
মোটকথা, ২২ গজ থেকে রাজনৈতিক ময়দানে—ইউসুফ পাঠানের ‘ছক্কা’ কি ভোটের মাঠেও ঝড় তুলতে পারবে, তা দেখার অপেক্ষায় শামসেরগঞ্জ।

